মহাকাশ নিয়ে কিছু মজার ঘটনা|Interesting and Fun Facts About the Universe

মহাকাশ নিয়ে কিছু মজার ঘটনা|Interesting and Fun Facts About the Universe

সারা বিশ্ব জুড়ে মহাবিশ্ব আমাদের অনেকের কাছে বরাবরই একটি কৌতূহলী জায়গা ছিল। আমরা সকলেই আমাদের মহাবিশ্বের উপাদানগুলি দেখে মুগ্ধ হয়েছি এবং এর বিভিন্ন রহস্য সম্পর্কে সর্বদা প্রশ্ন রেখেছি। ‘মহাবিশ্ব’ এমন একটি নাম যা আমরা মহাকাশে বিদ্যমান সমস্ত কিছুর সংগ্রহ বর্ণনা করতে ব্যবহার করি। এটি কোটি কোটি তারা, গ্যালাক্সি, ব্ল্যাক হোল, প্রচুর গ্যাসের মেঘ এবং আরও অনেক আকর্ষণীয় জিনিস দ্বারা তৈরি। অতএব, আমরা মহাবিশ্ব সম্পর্কে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি যা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

(Fact No- 1)
আমরা অনেকেই মনে করি যে স্পেস বা মহাকাশ আমাদের পৃথিবী থেকে অনেক অনেক দূরে। স্পেসে কি আছে না আছে তা ভালোভাবে দেখতে হলে আমাদের টেলিস্কোপের দরকার হয়। তাই এটা ধারনা করা স্বাভাবিক যে স্পেস আমাদের থেকে অনেক দূরে। আপনি যদি আগে থেকে না জেনে থাকেন, তাহলে জানলে অবাক হবেন যে, আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং স্পেসের শুরুর যে সীমানাটি আছে, সেটি আমাদের পৃথিবীর মাটির থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ওপরে। কিছুটা দূর ঠিকই, তবে এতোটা নয় যতটা আমরা ভেবে থাকি। একবার ভেবে দেখুন, আপনি যদি একটি গাড়ী ওপরের দিকে হাই স্পিডে ড্রাইভ করতে পারতেন, তাহলে পৃথিবীর থেকে স্পেসের শুরুর সীমানার পৌঁছাতে আপনার সময় লাগত ১ ঘণ্টারও কম।

(Fact No- 2)
শনি গ্রহকে তো আমরা সবাই চিনি। এটি আমাদের সৌরজগতের ৮ টি প্ল্যানেটের মধ্যে ষষ্ঠ এবং একটি মেজর প্ল্যানেট বলা যায়। শনি গ্রহটি হচ্ছে সেই গ্রহ যেটির চারপাশে একটি রিং এর মতো আছে। আপনি হয়তো জানেন না যে, শনি গ্রহটিকে যদি আপনি একটি বিশাল বড় পানির টাবে রাখতে পারতেন, তাহলে এটি পানির ওপরে ভাসতো। এর কারন হচ্ছে, শনি গ্রহটি তেমন কোন ভারী ম্যাটেরিয়াল দ্বারা তৈরি নয়। এই প্ল্যানেটটি মুলত গ্যাসীয় পদার্থ দিয়েই তৈরি। তাই এটিকে বিশাল বড় কোন পানির টাবে প্লেস করা সম্ভব হলে এটি পানিতে নিজের ওজনের তুলনায় বেশি পানি অপসারিত করতে পারবে এবং বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী এটি পানিতে ভেসে থাকবে।

(Fact No- 3)
আপনি যদি স্পেসে দুটি মেটালের খণ্ড একসাথে রাখেন এবং সেই দুইটি একে অন্যকে স্পর্শ করে, তাহলে সেইদুটি একসাথে স্টিক হয়ে থাকবে। এর কারন হচ্ছে, স্পেস ভ্যাকিউম চেম্বারের মতো কাজ করে। এই পদ্ধতিটিকে বলা হয় কোল্ড ওয়েল্ডিং। আমাদের পৃথিবীতে অক্সিজেন আছে বলে এমনটা কখনোই সম্ভব হয়না। আমাদের পৃথিবীতে দুটি মেটাল একসাথে জোড়া দেওয়ার জন্য ওয়েল্ডিং ম্যাশিনের দরকার হয় যেগুলো ম্যানুফ্যাকচারিং কাজের সময় ব্যবহার করা হয়। তবে এই মেটাল একসাথে জোড়া লেগে থাকার কারনে মহাকাশচারীদের কোন সমস্যা হয়না। কারন, তাদের স্পেসসুট এবং অন্যান্য ইন্সট্রুমেন্টে অক্সিজেনের লেয়ার থাকে। তাই সেগুলো একসাথে লেগে যায়না।

(Fact No- 4)
আপনি যদি অ্যাপোলো মিশন অর্থাৎ মানুষের চন্দ্রভ্রমনের মিশনটির ছবি দেখে থাকেন, তাহলে আপনি চাঁদের মাটিতে আর্মস্ট্রং, অ্যাল্ড্রিন এবং কলিনস এর পায়ের ছাপগুলোও দেখেছেন। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পায়ের ছাপগুলো কখনোই মুছে যাবেনা চাঁদের মাটি থেকে। আমরা সবাই জানি চাঁদের কোন বায়ুমণ্ডল নেই বা সহজ কথায় বললে চাঁদে কোন বাতাসের অস্তিত্বই নেই। অর্থাৎ, চাঁদে এসব পায়ের ছাপ মুছে ফেলার মতো কোন বাতাস বা কোন পানি কিছুই নেই। অ্যাপোলো মিশনে চাঁদে যেসব পায়ের ছাপ পড়েছিল, সেগুলো সেখানে ১০ থেকে ১০০ মিলিয়ন বছরেরও বেশি সময় ধরে অবিকৃত অবস্থায় থাকবে। ১০০ মিলিয়ন বছরের পরে কিছু কারনে সেগুলো মুছে যেতে পারে, তবে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের লাইফস্প্যান হিসাব করলে সেটাকে সারাজীবনই বলা যায়।

(Fact No- 5)
আমরা প্রায় সবাই ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে কম-বেশি জানি। তবে আমরা অনেকেই যা জানি না তা হচ্ছে, আমাদের পৃথিবীর সবথেকে কাছে যে ব্ল্যাক হোলটি আছে, সেটি আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় মাত্র ১৬০০ আলোকবর্ষ দূরে। আলো ১ বছর পরিমান সময়ে যতটা দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে তাকে ১ আলোকবর্ষ বলা হয়। এমন ১৬০০ আলোকবর্ষ দুরেই আছে আমাদের অর্থাৎ পৃথিবীর সবথেকে কাছের ব্ল্যাক হোল। এটি শুনতে অনেক অনেক দূর মনে হলেও, আমাদের ইউনিভার্সের তুলনায় এই দূরত্ব আমাদের পৃথিবী থেকে অবিশ্বাস্যরকম কাছে। কারন, মহাবিশ্বের কোন শেষ নেই।

(Fact No- 6)
প্রতিতা মুহূর্ত জ্বলন্ত গ্যাসের বিশাল এক অগ্নিগোলক হচ্ছে সূর্য। সূর্যের তাপে মরুভূমিতে পা রাখাটাও যেন জীবন মরণের প্রশ্ন। তাই আমরা অনেকেই ভেবে থাকি, সূর্যের থেকে উত্তপ্ত অন্য কিছু মনে হয় পৃথিবীতে নেই। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন, বজ্রপাত সূর্যের সারফেসের তাপমাত্রার কাছে কিছুই না। আকাশে যখন বজ্রপাত হয় তখন এর তাপমাত্রা সূর্যের থেকেও পাচ গুন বেশি হয়ে থাকে, যার তাপমাত্রা দাঁড়ায় ৩০ হাজার কেলভিন। অপরদিকে সূর্যের তাপমাত্রা হচ্ছে মাত্র ছয় হাজার কেলভিন।

(Fact No- 7)
ধরুন আপনাকে টার্গেট করে যদি পারমাণবিক হামলা করা হয় তাহলে আপনি কি বেচে ফিরতে পারবেন, মনে হয় না। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, নাগাসাকিতে পারমানবিক হামলার পরও সেখানে আরশোলা বেচে ছিলো। এখানে আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, মহাকাশে যদি একটি আরশোলা ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে এটি পৃথিবী থেকে আরো দ্রুত চলাফেরা করতে পারবে এবং কোন প্রকার গ্রাভিটেশনাল ফোর্স একে কিছুই করতে পারবে না।

(Fact No- 8)
আমাদের সবথেকে কাছের গ্যালাক্সি হচ্ছে এন্ড্রোমেডা গ্যালাক্সি। যা কিনা পৃথিবী থেকে ২.৫ মিলিয়ন আলোক অধিবর্ষ দূরে।

(Fact No- 9)
আমরা যখন পরিস্কার আকাশের দিকে তাকাই তখন আকাশে এক একটা স্থান দেখতে পাই যেখানে তারাগুলো একটা একটা নির্দিস্ট প্যাটর্নে সাজানো থাকে। এগুলোকে নক্ষত্র পুঞ্জ বলে। একটা নক্ষত্রপুঞ্জের ভিতরে প্রচুর গ্যাস পুঞ্জিভুত অবস্থায় থাকে। মজার বিষয় হচ্ছে Aquila নামক একটা নক্ষত্রপুঞ্জের গ্যাসের ভিতরে এত পরিমান এলকোহল আছে যে তা আমাদের সমুদ্রের পানিকে ছারিয়ে যাবে। অর্থাৎ এই এলকোহল দিয়ে যদি মদ বানানো হয় তবে সেই মদ সমুদ্রের পানিকে ছারিয়ে যাবে।

(Fact No- 10)
খালি চোখে সূর্যকে দেখে হলুদ রঙের
মনে হলেও আসলে, মহাকাশ থেকে সূর্যকে হলুদ নয়, সাদা দেখায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের ফোটন কণা বিচ্ছুরিত হয়ে যায়, ফলে সূর্যের দীর্ঘতর দৈর্ঘ্য সম্পন্ন হলুদ, কমলা আর লাল আলোকরশ্মিগুলিই কেবল আমাদের চোখে ধরা পড়ে। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই, কাজেই এই কাণ্ডটি ঘটবারও সুযোগ নেই।

(Fact No- 11)
আপনি যদি শনির বৃহত্তম উপগ্রহ স্যাটার্নে গিয়ে উড়ে বেড়াতে চান তাহলে হাতের দু’পাশে দু’টো ডানার মতো পাতলা চামড়া লাগিয়ে অনায়াসেই উড়ে বেড়াতে পারবেন। কারণ বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব সেখানে অত্যধিক আর মাধ্যাকর্ষণ অত্যন্ত কম। অবশ্য এই কাণ্ডটি কেবল তত্ত্বগতভাবেই সম্ভব।

(Fact No- 12)
আপনি জুপিটার, স্যাটার্ন, ইউরেনাস এবং নেপচুনে গিয়ে কখনো হাটতে পারবেন না। কারন সেখানে হাটার জন্য কোন রকমের সলিড সারফেস নেই।

(Fact No- 13)
আপনি যদি প্লেনে করে প্লুটো গ্রহে যেতে চান তাহলে জীবনের ইতি করার প্ল্যান আপনি করে ফেলেছেন। কারন প্লূটো গ্রহে যেতে আপনার সময় লাগবে more than 800 years! কি যেতে পারবেন তো!

(Fact No- 14)
পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত হায়েস্ট বাতাসের গতি রেকর্ড করা হয়েছে সাইক্লোন অলিভিয়ার সময়, তখন বাতাসের গতে ছিলো ২৫৪ মাইল পার আওয়ার। একটু ভেবে দেখেছেন সাইক্লোন অলিভিয়া ঐ অঞ্চলের কি পরিমান ক্ষতি করেছে। তবে এখন যদি সৌরজগত থেকে বাতাস আসে তাহলে কি হবে?
সৌরজগতের মধ্যে থাকা নেপচুন গ্রহ সবথেকে গতিসম্পন্ন বাতাস প্রবাহিত করতে পারে, এর গতি দাঁড়ায় ঘন্টায় এক হাজার ছয়শ মাইল। যা কিনা পৃথিবীর বাতাস থেকেও শতগুন বেশি। এখানে অবাক করার বিষয় হচ্ছে, নেপচুন থেকে এই জায়ান্ট স্পিনিং স্টর্ম যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে তবে পুরো পৃথিবীকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে গ্রাস করে ফেলতে পারবে।

(Fact No- 15)
আপনি স্পেসে গিয়ে কখনো চোখের পানি ঝড়িয়ে কান্না করতে পারবেন না। কি অবাক হচ্ছেন! কারন স্পেসে গিয়ে আপনি যতই কান্নার চেষ্টা করেন না কেনো আপনার চোখের পানি আর বের হবে না।

(Fact No- 16)
অনেকেই আছেন যারা রাত হলেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর আকাশের তারাদের চিনতে চেষ্টা করেন। আকাশের এই তারাদের মধ্যে কোনোটি গ্রহ, কোনোটি নক্ষত্র, কোনোটি উপগ্রহ, কোনোটি বা ধূমকেতু। রাতের আকাশে কোনো লেজওয়ালা তারা দেখেছেন কি? সেটিই হল ধুমকেতু। হ্যালির ধূমকেতু হল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধূমকেতু। এটাকে ক্ষণস্থায়ী ধূমকেতু বলা হয় কারণ সে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ২০০ বছরের কম সময় নেয়। প্রতি ৭৫ বা ৭৬ বছর পরপর খালি চোখে এ ধূমকেতু দেখা যায় পৃথিবী থেকে।
১৯৮৬ সালে সর্বশেষ একে দেখা যায়। আশা করা যাচ্ছে ২০৬১ সালে আবার এটিকে দেখা যাবে।

(Fact No- 17)
আমরা সবাই জানি ১ দিন সম্পন্ন হতে সময় লাগে চব্বিশ ঘন্টা। কিন্তু কোথাও এমন হয় কি যেখানে একদিন অতিক্রম করতে চব্বিশ ঘণ্টারো বেশি সময় লাগে। মনে হয় অনেকেই জানেন সেটি কোন স্থান। আমি বলছি, প্লুটোগ্রহের কথা যেখানে একদিন হচ্ছে
১৫৩.৬ ঘন্টার সমান। যাকে পৃথিবীর সাপেক্ষে পরিমাপ করলে দাঁড়ায় ছয় দিন
নয় ঘন্টা ছত্রিশ মিনিট। এর কারন হচ্ছে প্লুটোগ্রহের রোটেশন রেট অন্যান্য গ্রহের তুলনায় কম।

(Fact No- 18)
আপনি প্রতিদিন কয়টি সূর্যোদয় এবং কয়টি সূর্যাস্ত দেখতে পান? কি প্রশ্ন শুনেই অবাক হচ্ছেন! কিন্তু আপনি এর থেকেও অবাক হবেন যখন শুনবেন, মহাকাশচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে প্রতিদিন ১৫ বার সূর্যোদয় এবং ১৫ বার সূর্যাস্ত দেখেন।

(Fact No- 19)
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ওরিয়ন স্প্যান গতবছর থেকে একটি বিলাসবহুল মহাকাশীয় হোটেল তৈরি করছে, যা ২০২২ সালে উদ্বোধন হতে পারে। মাত্র ৯.৫ মিলিয়ন ডলারে আপনি হোটেলটিতে ১২ দিন কাটাতে পারবেন এবং সেখানে যাওয়ার পূর্বে আপনাকে তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থাও একটি মহাকাশীয় হোটেল মডিউলের ঘোষণা দিয়েছে, যা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে সংযুক্ত হবে এবং ২০২১ সালে ডেলিভার হবে।

(Fact No- 20)
রাতের আকাশে উল্কা দেখে হয়তো আপনি ভাবেন যে কোনো তারা খসে পড়ছে। কিন্তু এগুলো আসলে কোনো তারাই নয়, এগুলো হতে পারে মহাকাশের বর্জ্য। মহাকাশে উৎপন্ন এসব বর্জ্য হিমায়িত-শুষ্ক এবং তারা মহাকাশ থেকে খসে পড়ে। যখন এরা পৃথিবীর কাছে আসে, বায়ুমণ্ডলে জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়।

admin

Atik Hassan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: